![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
রাষ্ট্র সংস্কারে জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করলে তার পরিণতি কখনোই ভালো হয় না। দেশের ইতিহাসে যেমন এর নজির রয়েছে, তেমনি বিশ্বের ইতিহাসও তার সাক্ষী।
শনিবার (১ আগস্ট) সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে দৈনিক জালালাবাদ-এর ৩৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা প্রত্যাশার একটি গণভোট পেয়েছিলাম। সেটি ছিল জাতিকে বদলে দেওয়ার ভোট। তখন সরকারি দল, বিরোধী দল, বিএনপি কিংবা জামায়াত—কেউ আলাদা ছিল না। সবাই গণভোটের পক্ষে কথা বলেছিল। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পর কেন সেই অবস্থান বদলে গেল? জনগণের রায়কে সম্মান না করলে কী হয়, তার ইতিহাস এই দেশেও আছে, বিশ্বেও আছে।”
তিনি বলেন, “আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরে আসিনি। আমরা বিশ্বাস করি, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় বাস্তবায়িত হলে সমাজে একটি মৌলিক পরিবর্তন আসবে, যার প্রত্যাশায় দেশের মানুষ এখনও অপেক্ষা করছে।”
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদী আমলের সবকিছু চাপা পড়ে যাক এবং একটি নতুন জাতির উত্থান ঘটুক। কিন্তু সরকার এখনও সে পথে হাঁটছে না। শুধু আমরা নই, সরকারি দলের মহাসচিবও বলেছেন—সরকার গঠনের পরও অনেক কিছু বদলায়নি, বরং দুর্নীতি বেড়েছে।”
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শুধু ধানের শীষে ভোট দেওয়া মানুষের নন, তিনি পুরো দেশের প্রধানমন্ত্রী। যারা অন্য দলকে ভোট দিয়েছেন কিংবা ভোট দেননি, তাদেরও প্রধানমন্ত্রী তিনি। তাই দেশের স্বার্থে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর দায়িত্ব নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “স্বয়ং স্পিকারও বলেছেন, চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে জাতির সামনে অদূর ভবিষ্যতে বড় সংকট দেখা দেবে। আমরা চাই না দেশ আবার চোরাবালিতে হারিয়ে যাক বা অন্ধকার গলিতে প্রবেশ করুক। ১,৪০০ শহীদের আত্মত্যাগ এবং আহত-নিহত মানুষের ত্যাগের মর্যাদা জাতিকে দিতেই হবে।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশনে প্রকাশ্য রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে এ ধরনের পদক্ষেপকে জনগণ ইতিবাচকভাবে দেখছে না। তিনি বলেন, “স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে যদি কোনো পাঁয়তারা করা হয়, তাহলে সরকারের সদিচ্ছা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। এ ধরনের নির্বাচন জনগণও মেনে নেবে না, আমরাও মেনে নেব না। তবে সরকার যদি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি ভিন্ন বিষয়।”
ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবকিছুকেই আমরা ষড়যন্ত্র বলতে চাই না। আবার ষড়যন্ত্র নেই, সেটাও বলব না। বিএনপিও দীর্ঘদিন জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। একজন মজলুম আরেকজন মজলুমের কষ্ট বোঝার কথা।”
গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। একটি স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই সমাজকে সজাগ রাখে এবং মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনে। গণমাধ্যমকে সমাজের আয়না বলা হয়।”
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, দৈনিক জালালাবাদ-এর সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রব, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং ফিলিপাইনস ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।